সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ: দারফুরে গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয় চরমে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দেশ সুদান আবারও রক্তে রঞ্জিত। সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)–এর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সংঘাত এখন ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে এসে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর দারফুরের এল ফাশের শহরটি RSF বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। শহর দখলের সময় শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত ও শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এটিকে “গণহত্যার আশঙ্কাজনক ইঙ্গিত” হিসেবে দেখছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দুই বছরের এই যুদ্ধে ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে, আর দুই কোটির বেশি মানুষ এখন খাদ্য সংকটে ভুগছে। হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা ও পানি সংকট চরমে পৌঁছেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এল ফাশেরের একটি হাসপাতালে RSF বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৪৬০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, RSF বাহিনী বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও যৌন সহিংসতার দায়ে অভিযুক্ত। জাতিগতভাবে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, যা দারফুর গণহত্যার ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
অন্যদিকে, সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান–এর নেতৃত্বাধীন সরকারি বাহিনী দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তবে রাজধানী খার্তুমসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চল এখনও RSF-এর দখলে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানালেও তা কার্যকর হয়নি। জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের আশঙ্কা— যদি দ্রুত সমাধান না আসে, সুদান আফ্রিকার বৃহত্তম মানবিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রে পরিণত হবে।
